ইনসেপশন রিপোর্টের ওপর এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
EARN প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডারদের ইনসেপশন রিপোর্টের ওপর দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব উল আলম
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন 'ইকোনমিক এক্সিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট’ EARN প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডারদের প্রণীত ইনসেপশন রিপোর্টের ওপর এক পর্যালোচনা সভা ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলের জীবন বীমা ভবনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অস্থায়ী কার্যালয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব উল আলম। সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন।
সভায় ১০ প্যাকেজের ইনসেপশন রিপোর্ট উপস্থাপন করেন আর্ন প্রকল্পের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত চার সার্ভিস প্রোভাইডার - ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার ও ঢাকা আহছানিয়া মিশনের কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে সোশ্যাল নর্মস স্পেশালাইজড এজেন্সি (এসএনএসএ) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও তাদের ইনসেপশন রিপোর্ট উপস্থাপন করে।
প্রতিটি রিপোর্ট উপস্থাপনের পর উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আর্ন প্রকল্পের কর্মকর্তা ও পরামর্শকবৃন্দ। পর্যালোচনায় বেশ কিছু প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত ও তথ্যগত অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়। এ সময় অধিকাংশ প্যাকেজে কাজের পরিকল্পনা একই ধরনের হলেও লক্ষ্যসংখ্যা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (ভিএলটিসি) তথ্য, সময়সূচি এবং বিশেষজ্ঞ জনবলের ঘাটতির বিষয়গুলো উঠে আসে।
ইনসেপশন রিপোর্টগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাহাড়ি অঞ্চল ও সিলেট বিভাগের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত কোনো দুর্যোগবান্ধব যোগাযোগ অবকাঠামো বা 'অপারেশনাল প্রোটোকল' রাখা হয়নি। প্রকল্প ব্র্যান্ডিং ও কমিউনিকেশন গাইডলাইন মেনে কাভার পেজ বা ডকুমেন্টে নির্দিষ্ট রঙ, ফন্ট এবং লোগোর সঠিক ব্যবহার না করার বিষয়টিও পর্যালোচনায় উঠে আসে।
'জিরো-টলারেন্স' বা 'কোনোভাবেই ছাড় না দেওয়ার' নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, SEA/SH (যৌন শোষণ, নির্যাতন ও হয়রানি) সংক্রান্ত সকল অভিযোগ GRM ব্যবস্থার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে PMU কে জানানোর ব্যাপারে তাগিদ দেন প্রকল্পের জেন্ডার অ্যান্ড সোশ্যাল ইনক্লুশন স্পেশালিস্ট কণিকা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, যেহেতু এটি একটি 'উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি' (Substantial Risk) সম্পন্ন প্রকল্প, তাই সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর (SPs) উচিত তাদের কার্যক্রম ও কৌশলগুলো সে অনুযায়ী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা এবং চিহ্নিত সুরক্ষা-ঝুঁকিগুলো মোকাবিলার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এসব অসামঞ্জস্য দূর করে প্রকল্প সফল করতে একটি একীভূত 'সমন্বিত মাস্টার ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান' বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয় পর্যালোচনা সভায়। এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয়ভাবে একটি 'মাস্টার ডাটাবেজ', অভিন্ন এমআইএস কাঠামো এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে মাঠপর্যায়ের ডেটা ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
(আর্ন ডেস্ক)